স্বামীর সঙ্গে দূরত্বের কারণেই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে নেহা
রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর রহস্যজট এখনো খোলেনি। পরিবারের অভিযোগ, ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষক্রিয়া ওই ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ভুক্তভোগীর বান্ধবী ফারজানা জামান ওরফে ডিজে নেহা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অন্ধকার জগৎ সম্পর্কে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নেহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। রবিবার রিমান্ডের তৃতীয় দিনে নেহার ফোনবুকে পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ডজনখানেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর নম্বর পেয়েছে। যেগুলো সাংকেতিকভাবে সংরক্ষণ করা। এসব ধনাঢ্যর অনেকের কাছে মদ, তরুণী সরবরাহ করতেন তিনি। কখনো কখনো নেহা নিজেই তাদের সঙ্গ দিয়েছেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
সূত্র জানায়, ভালো লাগা তরুণ-তরুণীদের একান্তে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের একাধিক আবাসিক হোটেল এবং রিসোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নেহার। তা ছাড়া নেহার এসব পার্টিতে মাদক সরবরাহ করত অবৈধ মাদক কারবারিরা।
গত মাসের শেষ দিকে মদ পানের পর অস্বাভাবিকভাবে মারা যায় ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাধুরী ও তার বন্ধু আরাফাত। এ ঘটনায় মামলা হলে আলোচনায় চলে আসেন নেহা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে মর্তুজা রায়হান ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে মিরপুর থেকে স্কুটারে করে লালমাটিয়ায় আরাফাতের বাসায় নিয়ে যান। পরে আরাফাত, ওই শিক্ষার্থী ও রায়হান একসঙ্গে উবারে করে উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের ‘বাম্বুস্যুট রেস্টুরেন্টে’ যান। সেখানে আসামি নেহা, শাফায়েত জামিলসহ (২২) আসামিরা মদ পান করেন এবং ভিকটিমকে মদ পান করান।
একপর্যায়ে ভিকটিম অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে রায়হান ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রাতে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেন। অসিম পরদিন এসে ভিকটিমকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ভিকটিম মারা যান।
এ ছাড়া তার সঙ্গে থেকে মদ পান করা আরো এক সহপাঠী আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এ ঘটনায় মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও বান্ধবী নুহাত আলম তাফসীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া শাফায়াত নামে অপর আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার সর্বশেষ আসামি নেহাকে আজিমপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেহার অপরাধ, নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমেই উল্লেখ্য পাঁচজন একে অপরে বন্ধুতে রূপান্তরিত হয় বলে জানা গেছে।
নেহা সম্পর্কে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিন ওয়েস্টার্ন দামি দামি সব ড্রেস পরে বার-ক্লাবে যেত ডিজে নেহা। ব্যবহার করতো দামি ব্র্যান্ডের সব মেকআপ। আর এমন রূপের ঝলক দেখিয়ে আয়োজন করতেন ডিজে পার্টির। সেই পার্টিতে নিয়ে আসা হতো ধনী পরিবারের সন্তানদের। সেখান থেকে অনৈতিক কার্যকলাপ। এটাই ছিলে নেহার আয়ের উৎস।
গত শুক্রবার নেহাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনে পুলিশ। সে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে। পরিবার ও স্বামীর সঙ্গে দূরত্বের কারণে সে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, রাজধানীতে যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে এই বিষাক্ত মদ কোথা থেকে এসেছে, নেহার সঙ্গে আর কারা জড়িত- তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন